Home / Religion / সিজদায় যদি ঘুমিয়ে পড়েন !

সিজদায় যদি ঘুমিয়ে পড়েন !

কিছুদিন আগে আমাদের মহল্লার একজন লোক ফজরের নামাজের দ্বিতীয় রাকাতে সিজদায় ঘুমিয়ে পড়েন।ইমাম সালাম ফিরালে শব্দ শুনে তিনি সিজদা থেকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে সালাম ফিরিয়ে নেন,তাঁর ওই নামাজ কি সহিহ হয়েছে?আবদুল্লাহ, মুরাদনগর, কুমিল্লা। উত্তর:লোকটির নামাজ হয়নি। কারণ শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পরিমাণ বসা ফরজ।এই ফরজ আদায় না হওয়ায় তাঁর নামাজ নষ্ট হয়ে গেছে। তাঁকে আবার ওই নামাজ পড়ে নিতে হবে।

Loading...

নবীজির আতিথেয়তার সঙ্গে থাকত শিক্ষা ও উপদেশ মহানবী (সা.) ছিলেন সব গুণের আধার।আতিথেয়তা ছিল তাঁর জীবনের একটি অন্যতম প্রধান গুণ। সাধারণভাবেই আরব জাতি অতিথিপরায়ণ।জাহেলি যুগে পরম শত্রুও অতিথি হলে তাকে আরবরা অবলীলায় ক্ষমা করে দিত।আরব জাতি-গোষ্ঠীর ভেতর কুরাইশের বনু হাশেম আতিথেয়তায় বিশেষ খ্যাতি ছিল।তাদের আতিথেয়তার স্বীকৃতিস্বরূপ তারা বংশপরম্পরায় হজ মৌসুমে হাজিদের পানি পান ও আপ্যায়নের দায়িত্ব পালন করে এসেছেন।রাসুলুল্লাহ (সা.)ও শৈশবে দাদার সঙ্গে হাজিদের পানি পান করিয়েছিলেন।উদারতা ও আতিথেয়তায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন বংশীয় ধারারও অনেক ঊর্ধ্বে। তাঁর আতিথেয়তা ছিল প্রবাদতুল্য।প্রথম ওহি নাজিলের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নিজের ব্যাপারে ভীত হয়ে পড়েন,তখন খাদিজা (রা.) তাঁর অনন্য যেসব গুণাবলির উল্লেখ করেন তার মধ্যে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা এবং আতিথেয়তার কথা উল্লেখ করেন। খাদিজা (রা.) নবীজিকে আশ্বস্ত করে বলেন,আল্লাহর শপথ!কখনোই না। আল্লাহ আপনাকে কখনো অপদস্থ করবেন না।নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করেন,দুর্বলের বোঝা বহন করেন,অসহায়কে সহায়তা করেন,অতিথিদের সম্মানজনক আপ্যায়ন করেন এবং সত্যের অনুসারীদের সাহায্য করেন।

পবিত্র কোরআনেও রাসুলুল্লাহ (সা.) এর আতিথেয়তার একটি ঘটনা বিবৃত হয়েছে।এই ঘটনা থেকে অতিথিদের প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর মনোভাব যেমন স্পষ্ট হয়, তেমনি অতিথিদের জন্য রয়েছে শিক্ষা ও উপদেশ।ইরশাদ হয়েছে,হে মুমিনরা!তোমাদের অনুমতি দেওয়া না হলে খাদ্য-প্রস্তুত হওয়ার অপেক্ষা না করে খাওয়ার জন্য নবীর ঘরে প্রবেশ করবে না।তবে তোমাদের আহ্বান জানালে তোমরা প্রবেশ করবে।আর খাওয়া শেষে তোমরা চলে যেয়ো। তোমরা কথাবার্তায় লিপ্ত হয়ে যেয়ো না।কেননা তোমাদের এই আচরণ নবীকে কষ্ট দেয়।তিনি তোমাদের উঠিয়ে দিতে সংকোচবোধ করেন।কিন্তু আল্লাহ সত্য বর্ণনায় সংকোচবোধ করেন না।এই আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপট একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ এক হাদিসে বলা হয়েছে,কোনো একজন স্ত্রীর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো।উম্মে সালমা (রা.) হাইস খেজুর দুধ ও ঘির তৈরি খাবার প্রস্তুত করলেন।তিনি তা আমাকে দিয়ে বললেন,এটা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে নিয়ে যাও এবং আমার সালাম বলো। আর বলবে,এটা আমার পক্ষ থেকে তাঁর জন্য সামান্য উপহার।

আমি তা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর কাছে নিয়ে গেলাম এবং উম্মে সালমা (রা.) এর সালাম পৌঁছে দিলাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) তা দেখে বললেন, রাখো এবং অমুক অমুক ব্যক্তিকে ডেকে নিয়ে এসো।বেশ কয়েকজনের নাম বলার পর বললেন,এ ছাড়া যেসব মুসলিমের সাক্ষাৎ তুমি পাবে।তিনি আমাকে যাদের নাম বলেছিলেন এবং যাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলো—আমি সবাইকে আমন্ত্রণ জানালাম।ফিরে এসে দেখলাম,রাসুল (সা.) এর বাড়ি, তাঁর কক্ষ ও সুফফা মসজিদে নববীতে দ্বিনি শিক্ষার্থীদের থাকার স্থান মানুষে পরিপূর্ণ। প্রায় ৩০০ লোক যেদিন উপস্থিত হন।আমাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) খাবারের পাত্র হাতে নিলেন, দোয়া করেন এবং বলেন,মাশাআল্লাহ!এরপর বলেন, যে ১০ ব্যক্তিকে ডাকা হবে তারা এসে খাবার গ্রহণ করবে। প্রত্যেকে যা পাবে তা-ই খাবে।এভাবে সবাই আহার করল। রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন পাত্রটি রেখে দিলেন তখন তাতে প্রথম অবস্থার চেয়ে বেশি খাবার ছিল। খাওয়া শেষ করার পর কিছু মানুষ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ঘরে বসে গল্প জুড়ে দিল। অথচ রাসুল (সা.)-এর নববিবাহিতা স্ত্রী ঘরের ভেতর দেয়ালে দিকে মুখ করে বসেছিলেন। তারা আলাপচারিতা দীর্ঘায়িত করল।

About admin

Check Also

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন এত প্রধানমন্ত্রী !

ব্রিটেনে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং সেই সুবাদে ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিজয়ী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *